বিচিত্র
লেখাঃ জয়া সোমা চক্রবর্তী
অলঙ্করণঃ সায়ণী সিংহ রায়
"ছিঃ
ছিঃ! তুমি কী বলছ ঠাকুরপো? এ শোনাও পাপ! স্বাতীর তিন বছর বিয়ে হয়েছিল বাবুর সঙ্গে।
তার মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। বাচ্চাটার এখন দু'বছর। বাপ কী জিনিস, সেটাও জানল না।
আমিও চাই স্বাতী আবার বিয়ে করুক। কিন্তু তা বলে বুবাইকে? না, এ হয় না। সমাজ কী
বলবে?" কথাগুলো বলে হাঁফিয়ে যান স্বপ্নাদেবী।
রতন বলে,
"অন্যায়টা কোথায় বৌদি? বুবাইকে বিয়ে করলে স্বাতী আর তোমার আদরের নাতনি মুনিয়া
তোমার বুকেই থাকবে। এ শাস্ত্র অননুমোদিতও নয়।"
স্বপ্না ঘাড় নেড়ে বলেন, "না ঠাকুরপো। আমি
শাস্তর জানি না, সমাজ জানি। দেওর বিধবা বৌদিকে বিয়ে করলে আমাদের মধ্যবিত্তের সমাজে
ঢিঢিক্কার পরে যাবে। সমাজকে তুমি চেনো না।"
রতন উঠে আসে।
এক বছর আগে গাড়ি এক্সিডেন্টে বাবু চলে যাবার পরই শোকে বৌদি শয্যা নিয়েছেন। স্বাতী তাঁর কাছে বৌমা নয়, মেয়ে। বাবু আর বুবাইকেও তো তিনি পেটে ধরেন নি।সাধনবাবুর প্রথমপক্ষের স্ত্রী রত্না বুবাই হতে গিয়ে মারা যায়।বাবু তখন তিন বছর। সেই সময় মাসী স্বপ্নাই ওদের কোলে তুলে নেন। পরে তাঁকেই মাসী থেকে মা করে ঘরে আনেন সাধন। স্বপ্না আর সন্তান নেন নি। দাদা বলতেন, "স্বপ্না না থাকলে সংসারটা ভেসে যেত।"
অবাক রতন ভাবে- সেদিন জামাইবাবুকে বিয়ে করাটা যে সমাজ মেনে নিল, সেই সমাজ আজ দেওর-বৌদির বিয়েটা মানবে না কেন? সত্য সেলুকাস, বড় বিচিত্র এ দেশ!

Comments
Post a Comment