সব চরিত্র বাস্তব

 


লেখাঃ সৌরভ আঢ্য

অলংকরণঃ জয়দীপ বসু

কয়েকটা গলার স্বরে জানালার সামনে এসে দাঁড়ায় হিন্দোল। কয়েকজন মুখে মাস্ক পরে উল্টোদিকের দুটো পাশাপাশি বাড়িতে ডাকছে। কয়েক মুহুর্ত পরেই আর.টি.ও. অফিসে কাজ করা মৃগেনদা বেরিয়ে এলেন। এবার সামনের ছেলেমেয়ের দলটা একটা প্যাকেট তাঁর হাতে তুলে দিল। হিন্দোল একটু উঁকি মেরে দেখল- তাতে কেজি দুয়েক চাল, ডাল, আলু, চারটে ডিম আর সয়াবিনের একটা প্যাকেট। ও আচ্ছা, এই লকডাউনের সময় তাহলে এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সবাইকে সাহায্য দিচ্ছে!

হিন্দোল হাসি মুখে এবার দরজাটা খুলে বাইরে আসে। ততক্ষণে মৃগেনদার পাশের বাড়ির দরজা খুলে সীমা কাকিমা এসে দাঁড়িয়েছেন। উনি একটা সরকারি স্কুলে ক্লার্কের চাকরি করেন। কাকুও ব্যাংকে। তার পরেও অবশ্য বি.পি.এল. তালিকায় নাম আছে। হিন্দোল মনে মনে হাসে। রাজনৈতিক পার্টির মিছিলে বেরোলে এ'টুকু তো প্রাপ্যই। তবে এই মহামারীর সময়ে এই সাহায্যটা সবারই কাজে আসবে। 

ছেলেমেয়ের দলটার কয়েকজন এবার এইদিকে এগিয়ে আসে। বাকিরা সামনের দিকে এগিয়ে যায়। হিন্দোলের হাসি আরেকটু চওড়া হয়। উঠোনে এক পা নেমে আসে। হঠাৎ সামনের দলটা থেকে একটা মন্তব্য উড়ে আসে, "আরে ওদিকে কি করছিস? দেখছিস না নতুন দোতলা বাড়ি? ওদের আবার কীসের অভাব?"

পুরো দলটা সামনের দিকে এগিয়ে যায়। হিন্দোল কিছু বলতে গিয়েও পারে না। কোথায় যেন কিছু একটা পিছু টেনে ধরে। এভাবে কিছু চাওয়া তার পক্ষে সম্ভব না। আজ তিনমাস তার কোম্পানি তাকে স্যালারি দেয় নি। লকডাউনের আগে থেকেই বন্ধ। এদিকে বাড়িতে আরো চারটে পেট।এমনসময় মোবাইলে টুং করে একটা মেসেজ ঢোকে- সামনের দশ তারিখের মধ্যে বাড়ির লোনের নেক্সট ই.এম.আই. মিটিয়ে দেওয়ার মেসেজ।


Comments